Thursday, November 18, 2021

বাল্য বিবাহ/ ওমর ফারুক

 

 

বাল্য বিবাহ
ওমর ফারুক

ঘটক সাহেব ডাক দিয়া কয় –
   রহিম মিয়ারে !
মেয়ে তোমার ডাঙ্গর হইছে –
   বিবাহ দিবা না তারে 

আমার কাছে পাত্র আছে ,
 বিরাট বড় লোক –
তোমার মেয়ে সুখে থাকবে ,
এই কামনা হোক ।

রহিম মিয়া ডাক দিয়া কয় ,
মেয়ে আমার আইজ ছোট ,
  সবে ক্লাস ফাইভে,
এই বয়সে কেমনে বিয়া দিমু তারে ,

আমার ইচ্ছা ছিলো তারে ,
 লেখা পড়া শিখামু !
ওরে আমি বড় করে ডাক্তার 
ইঞ্জিনিয়ার  বানামু।

ঘটক সাহেব বড়ই পাজি,
বুদ্ধি তার খেক শিয়ালি ,
তোমার ঘাড়ে ভূত চেপেছে ,
  মেয়ে মানুষ সমাজের কি উপকারে আসে ।

  ওদের কাজ রান্না বান্না ঘরের ভিতর থাকা ,
     শুশুর শাশুড়ির যত্ন নেবে ।
  ‍গুরুজনদের করবে আদব,
     স্বামীর করবে সেবা ।
       নইলে তাদের ইহকাল পরকাল ,
সব যাবে ব্যাথা ।

নানান জনে নানান কথা ,
  যখন তোমায় বলবে ,
মেয়ের জন্য চুন কালি ,
  মুখ তোমার পুড়বে ।

রহিম মিয়া চিন্তা করলো ,
 আসলে তো ঠিক ,
মাইয়া মানুষ ধরে রাখলে সমাজের ক্ষতি ,
  মেয়ের সাথে কথা বলে দেখবো আমি ।

পাত্র আমার চেনা জানা দেখার কিছু নাই ।
রাজী থাকলে বলো আমায় ,
  আগামী জুমাই আয় ।

ঐখানে সব কিছু বলি  ।
রহিম মিয়া ঠিক আছে ,
   তুমি যা বুঝো ।
মেয়ে আমার একটা ,
 বুঝে শুনে করো ।

তোমার মেয়ে আমার মেয়ে -
  তপাত কিছু নাই ।
পরের হাতে তুলে দিলে -
 শান্তি খুঁজে পাই ।

রহিম মিয়া ঘরে গেল ,
ডাকলো মেয়েরে ।
তোমার জন্য পাত্র দেখলাম ,
   বিরাট বড় লোক ,
দাবি দাওয়া নাই তাদের ,
সুন্দরী আর সামাান্য -
   লেখাপড়া জানা হোক ।

বাবা আমি এখন করবো না তো বিয়া ,
পাড়ার লোকে আমায় যত করুক রিয়া ।

আমি এতো কথা শুনতে নাহি চাই ।
কথা আমার একটা ,
   তোমার বিয়ে ঐ ছেলের সাথে ,
জবান আমার পাক্কা ।

ঘটক সাহেব সব কিছু ঠিক ঠাক করে ,
  বিবাহের দিন ধার্য্য করে ।
মেয়ের বয়সের চাইতে তিন গুন ,
  পাত্রে কাছে বিয়ে দেয়  ।
মেয়েদের চাওয়া পাওয়ার কোন দাম নাই ,
টাকার কাছে মূর্খ সমাজ ,
মেয়েরা সর্বদা অসহায় ।
শেয়ার করুন

0 coment rios: