বাল্য বিবাহ
ওমর ফারুক
ঘটক সাহেব ডাক দিয়া কয় –
রহিম মিয়ারে !
মেয়ে তোমার ডাঙ্গর হইছে –
বিবাহ দিবা না তারে ।
রহিম মিয়ারে !
মেয়ে তোমার ডাঙ্গর হইছে –
বিবাহ দিবা না তারে ।
আমার কাছে পাত্র আছে ,
তোমার মেয়ে সুখে থাকবে ,
এই কামনা হোক ।
রহিম মিয়া ডাক দিয়া কয় ,
মেয়ে আমার আইজ ছোট ,
সবে ক্লাস ফাইভে,
এই বয়সে কেমনে বিয়া দিমু তারে ,
আমার ইচ্ছা ছিলো তারে ,
লেখা পড়া শিখামু !
ওরে আমি বড় করে ডাক্তার
ইঞ্জিনিয়ার বানামু।
বুদ্ধি তার খেক শিয়ালি ,
তোমার ঘাড়ে ভূত চেপেছে ,
মেয়ে মানুষ সমাজের কি উপকারে আসে ।
ওদের কাজ রান্না বান্না ঘরের ভিতর থাকা ,
শুশুর শাশুড়ির যত্ন নেবে ।
গুরুজনদের করবে আদব,
স্বামীর করবে সেবা ।
নইলে তাদের ইহকাল পরকাল ,
সব যাবে ব্যাথা ।
নানান জনে নানান কথা ,
যখন তোমায় বলবে ,
মেয়ের জন্য চুন কালি ,
মুখ তোমার পুড়বে ।
রহিম মিয়া চিন্তা করলো ,
আসলে তো ঠিক ,
মাইয়া মানুষ ধরে রাখলে সমাজের ক্ষতি ,
মেয়ের সাথে কথা বলে দেখবো আমি ।
পাত্র আমার চেনা জানা দেখার কিছু নাই ।
রাজী থাকলে বলো আমায় ,
আগামী জুমাই আয় ।
ঐখানে সব কিছু বলি ।
রহিম মিয়া ঠিক আছে ,
তুমি যা বুঝো ।
মেয়ে আমার একটা ,
বুঝে শুনে করো ।
তোমার মেয়ে আমার মেয়ে -
তপাত কিছু নাই ।
পরের হাতে তুলে দিলে -
পরের হাতে তুলে দিলে -
শান্তি খুঁজে পাই ।
রহিম মিয়া ঘরে গেল ,
ডাকলো মেয়েরে ।
তোমার জন্য পাত্র দেখলাম ,
বিরাট বড় লোক ,
দাবি দাওয়া নাই তাদের ,
সুন্দরী আর সামাান্য -
লেখাপড়া জানা হোক ।
বাবা আমি এখন করবো না তো বিয়া ,
পাড়ার লোকে আমায় যত করুক রিয়া ।
আমি এতো কথা শুনতে নাহি চাই ।
কথা আমার একটা ,
তোমার বিয়ে ঐ ছেলের সাথে ,
জবান আমার পাক্কা ।
ঘটক সাহেব সব কিছু ঠিক ঠাক করে ,
বিবাহের দিন ধার্য্য করে ।
মেয়ের বয়সের চাইতে তিন গুন ,
পাত্রে কাছে বিয়ে দেয় ।
মেয়েদের চাওয়া পাওয়ার কোন দাম নাই ,
টাকার কাছে মূর্খ সমাজ ,
মেয়েরা সর্বদা অসহায় ।
0 coment rios: