Monday, November 15, 2021

আমার জীবন / ওমর ফারুক


 

আমার জীবন 
  ওমর ফারুক 

  আমার জীবন রহস্যের ছানি ;
  রুপ কথার গল্পে ভরা !
  এক বাবা দু’মাতা ;
   নিজ মা মৃত !

   সেই মায়ের দুই ছেলে -তিন মেয়ে ,
     আমিই সেজো ।

  জন্মের পর বাকপ্রতিবন্ধী ;
  গাত্রে বিশ্রি ভরা !
  দেখিলে গিন্না লাগিত মোরে ,
   র্সদি কাশিতে রোগা ।

   ওঝা, বৌদ্ধ ,ডাক্তার ,কবিরাজ ,
   দিন রাত করিয়াছে পার ,
  শুধু আমার জন্য ।

  বড় বোনের নাকের নদ হারাইয়া
 কাঁদিতে লাগিতেছে গাছ তলায় বসিয়া !
 সেই কান্নার ভাগ লইয়া ,
 আমি উঠিলাম কাঁদিয়া ।

  সংসারের কত অভার ,
  অন্যের কাজ তাহার স্বভাব ।
  কিছু পাইলে নিজে না খাইয়া ,
  আমাদের দিতো খাবাইয়া ।

  বাবার হাতের মার খাইয়া ,
  আমাদের জড়াইয়া ধরে ,-
উঠিত কাদিয়া ।
  ছিন্ন কাপড় পরিয়া থাকিতো ,
  মুখ বুঝে সব সর্হ্য করিতো ।

  নানার বাড়ীত যাইয়া ,
  খালাতো ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করিযা ,
  পথ গেলাম হারাইয়া ।

  সবাই খুঁজিতেছে ,
  বড় বোন খুঁজে পাইছে ।
  বাড়ির পাশে মামার বাড়ি ,
  নিয়ে গেল মা ।
  মামতো ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে ,
  আমি কি আর সেথায় থাকি ।

  আমি একমত হতাম না -
বোনের সাথে ,
  বোন এক মত হতো না -
 আমার সাথে ।
  এই যেন ইসরাঈল ফিলিস্তিন এর দন্দ ।

  লুকোচুরি হৈ চৈ দুষ্টামি ভরা ,
  ইহা এক রঙিন জীবন ,
  রুপ কথার গল্পে ভরা ।

  2002 সাল মে কিংবা জুন ,
  কে যেন বলিলো তোর দেবর খুন ।
  সেখানে গিয়া মাথায় ঘুরিয়া -
রইলো পড়িয়া ।

  শুনতে পাইয়া গেলাম ছুঁটিয়া ,
  দেখিলাম তারে মাটিতে শুয়ে আছে ,
  মহিলাদের কান্নার শোর গোল বাডিয়াছে ,

  পিতাকে খুঁজিতেছি 
  কিছুক্ষন পর খুঁজে পাইছি ,
     সবাই মিলে নিয়ে গেল -
ফেণী সদর হাসপাতালে ।
 দুপুর দুইটা অচিন পুরের খবর আসে ,

 মামারা মামলা করে অনেকের নামে ,
 পোস্ট মর্ডান ছাড়া  -
ডাক্তার লাশ নাহি দেয় ।
সেই কি বিশ্রি মাতার শরীর ,
ভয়ানক দানবের থাবা ।
আকাশ বাতাস কান্নায় ভারি ,
আত্মীয়দের আহাজারি  ।

রাতে দিনে আসে পুলিশ ,
 যখন তখন দেয় হানা ।
 যে হারায় সেই বুঝে 
 বিরহের কি যন্ত্রণা ।

  বছর খানিক মামলা চলে ,
  সাক্ষীর খুবই অভার ।
  আসামিরা  নির্দোষ প্রমানিত হলে ,
  যত দোষ মোদের বলে ।

  দুই বছর পর বাবা -
আবার বিয়ে করে ,
  তত দিনে বড় বোন সংসারের হাল ধরে ,
  এই বার-ছুটি তার ,
   নতুন মা দাবি ধার ।

   যে হারায় সেই বুঝে 
 বিরহের কি যন্ত্রণা ।
অল্পতে কান তোলে ,
 বাবার কাছে নালিশ করে ।

নিজেকে ভাবে মহারাণী ভিক্টোরিয়া ,
খাইতে মানা ,চাইতে মানা ,
কিছু বলিলে 144 ধারা জারি ।
জীবনটাকে মনে হয় -
 জেল খানার কয়দী ।
যে হারায় সেই বুঝে 
 বিরহের কি যন্ত্রণা ।

পিতা কোন কিছু না বুঝে ,
সৎ মায়ের কথা ধরে ,
পুরুষ কেন এতো ভীতু !
 কোথায় তার স্বাধীনতা ।

 আমি ভীতু নয় স্পষ্ট প্রতিবাদী ,
 যে দিন পিতা বিনা দোষে  শাসন করে ,
  সেই দিন  হয়ে উঠি বিদ্রোহী ।

  চোখ মুছে মুখ বন্ধ করে ভাইদের শুনায়-
 গুণীজনদের বাণী ,
  সুযোগ বুঝে জামা কাপড় নিয়ে -
হয়ে গেলাম ফেরারী ।

  আমার জীবন রহস্যের ছাঁনি ;
  রুপ কথার গল্পে ভরা !  
শেয়ার করুন

0 coment rios: